breaking news

ইরানে সামরিক হা/ম/লা হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় বড় ঝুঁকি: সতর্কবার্তা আরাগচির

ইরানে সামরিক হামলা হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় বড় ঝুঁকি: সতর্কবার্তা আরাগচির

প্রকাশিত: আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২১/০২/২০২৬

জনসেবা নিউজ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন 


ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচি। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


আরাগচির মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায়, এখানে সংঘাত তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


তিনি আরও বলেন, সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নয়। বরং তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক বিভাজন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায়। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমার মধ্যেই থাকবে না। বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পরিবেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়তে পারে।


বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক শক্তি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।


আরাগচি ইঙ্গিত দেন, উত্তেজনা কমাতে বহুপাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সম্মান ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।


বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা পরিস্থিতিকে সংবেদনশীল করে তুলেছে। এমন সময়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগই হতে পারে টেকসই পথ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে সংলাপের দরজা খোলা রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


ইরানে সামরিক হামলা হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আরাগচি। কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর আন্তর্জাতিক মহলে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

Ads