breaking news

বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে, অর্থনীতি কি যাচ্ছে ফাঁদের দিকে?

ঋণের চাপ বাড়ছে, অর্থনীতি কি যাচ্ছে ‘ঋণের ফাঁদে’?বৈ

দেশিক ঋণ বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে অর্থনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ

Date ২০/০২/২০২৬

ঢাকা | প্রকাশিত:

সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন 

  


ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না হলে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়িয়েছে। যদিও এসব ঋণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হচ্ছে, তবে ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলার সংকট ও রিজার্ভ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত রপ্তানি ও প্রবাসী আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘ঋণের ফাঁদ’ বলতে এমন অবস্থাকে বোঝায় যখন একটি দেশ নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়। এতে ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশ সরাসরি সেই অবস্থায় নেই, তবে সতর্ক না হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


অন্যদিকে সরকার বলছে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ঋণ গ্রহণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বড় প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ঋণের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগে।


বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।



গত কয়েক বছরে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণের খরচও বেড়েছে। এতে ভবিষ্যৎ বাজেটে ঋণ পরিশোধের অংশ আরও বাড়তে পারে।



অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের বিকল্প নেই। সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করলে উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব—নয়তো ঋণের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।


বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতির প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি কি ঋণের ফাঁদে পড়ছে? বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

Ads